বিশেষ প্রতিনিধি, বিশেষ প্রতিনিধি।।
ইরান ও পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা আফগানদের ক্ষেত্রে তালেবান সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। তাদেরকে নির্যাতন ও নির্বিচারে আটক করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। সম্প্রতি আফগান শরণার্থীদেরকে প্রত্যাবর্তন শুরু করেছে ইরান ও পাকিস্তান। এতে করে এ বছরে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন কমপক্ষে ১৯ লাখ আফগান। এর মধ্যে ইরান থেকে ফেরত গেছেন বিপুল সংখ্যক। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে বলা হয়েছে, ফিরে আসা এসব আফগানদের মধ্যে তালেবান কর্তৃপক্ষের প্রতিশোধ ও অন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকিতে যারা আছেন তাদের মধ্যে নারী, মেয়ে, সংবাদকর্মী ও সুশীল সমাজের মানুষ উল্লেখযোগ্য।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) সম্প্রতি বলেছে, এ বছর প্রায় ৩০ লাখ মানুষ আফগানিস্তানে ফেরত যেতে পারেন। যখন দেশটি ইতিমধ্যেই তীব্র মানবিক সংকটে আছে। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন ও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় জানিয়েছে, ওই প্রতিবেদন ৪৯ জন আফগান শরণার্থীর সাক্ষাৎকার নিয়ে করা হয়েছে। বলা হয়েছে, নারী, গণমাধ্যম কর্মী, সুশীল সমাজের সদস্য ও ২০২১ সালের সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদেরকে টার্গেট করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, কাউকেই এমন দেশে পাঠানো উচিত না যেখানে তারা তাদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত ইতিহাসের কারণে নির্যাতনের শিকার হন।
গত বছরে নারীদের বিষয়ে একাধিক কঠোর নীতি চালু করেছে তালেবান সরকার। তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়, পার্ক, জিম এমনকি বিউটি পার্লারে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এদিকে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রথম কোনো দেশ হিসেবে তালেবান সরকার স্বীকৃতি দিয়েছে। ইরান ও পাকিস্তানের পদক্ষেপ অনুসরণ করে এবার আফগানদের বিতাড়নের বিষয়ে ভাবছে প্রতিবেশী দেশ তাজিকিস্তান। এরই মাঝে গত সপ্তাহে ৮১ আফগানকে প্রত্যাবর্তন করেছে জার্মানি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রত্যাবর্তনকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নানা ধরণের মানবাধিকার সংকট তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে সংস্থাটি তাৎক্ষণিক ওই প্রত্যাবর্তন বন্ধের আহ্বান জানান।